সাহারা মরুভূমির সেই রুক্ষ, নির্জন জায়গায় জন্ম হলো এক সুন্দরী গোলাপের। সেই গোলাপ গাছটির পাশেই বড় হচ্ছিলো দুটি ক্যাকটাস। তারা যখন ওই গোলাপটিকে দেখলো তখন তারা আশ্চর্য হলো যে এই শুষ্ক মরুভূমির বুকে একটা গোলাপ কিভাবে জন্মাতে পারে? তো তারা গোলাপটির সৌন্দর্যের প্রশংসা করতে কোন কমতি করতো না। কিন্তু সেই গোলাপটির নিজের সৌন্দর্য চোখে দেখার সৌভাগ্য কখনও হয় নি। সে তার দুইজন ক্যাকটাস বন্ধুর সাথে স্বাচ্ছন্দেই বড় হতে থাকলো।

তবে এই জলশূণ্য জায়গায় ওই গোলাপের বেঁচে থাকা অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়ালো কেননা সেখানে সেই গাছটির জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি ছিলো না। ক্যাকটাসদুটো যেহেতু নিজের ভিতর পানি জমিয়ে রাখতে পারতো এবং তারা পাশাপাশি থাকায় তারা তাদের গোলাপ বন্ধুকে তাদের শিকড়ের মাধ্যমে পানি দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতো। তো এভাবেই তাদের প্রতিদিনের জীবন কাটতে থাকলো। একদিন সেই মরুভূমির বুকে আগমন ঘটলো একজন মুসাফিরের। একজন পথিক রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় গোলাপ গাছটিকে লক্ষ করলো এবং সে এটা দেখে অবাক হলো। আর সে এটা ভাবতে লাগলো যে এই মরুভূমির ওপর যেহেতু একটি গোলাপ গাছের জন্ম হয়েছে সেহেতু ‍নিশ্চয়ই এটা কোন বিশেষ গোলাপ। এই ভেবে সে গোলাপটি তার সাথে শহরে নিয়ে যেতে চাইলো। গোলাপের শহর দেখার খুব ইচ্ছা, সে তার সাখে শহরে যেতে চাইলো।

কিন্তু ক্যাকটাসদুটি জানতো যে শহর ভালো জায়গা নয় আর সেখানে যদি গোলাপকে নিয়ে যাওয়া হয় তাহলে সে মারা যাবে। সেই পথিক যখন গোলাপকে পানি দেওয়ার জন্য পানির পাত্রটি বের করলো তখন ওই পানির পাত্রে নিজের চেহারা দেখে গোলাপ আশ্চর্য হয়ে গেল যে সে এত সুন্দর! গোলাপের গায়ে পানি দিয়ে ওই পথিক যখন গোলাপের শিকড়টি উপড়াতে যাবে তথনই ক্যাকটাসদুটি তার গায়ে কাঁটা আটকে দিলো। সে ব্যাথা পেয়ে রেগে গিয়ে ক্যাকটাসদুটিকে মারার চেষ্টা করলো। কিন্তু ক্যাকটাস শক্ত উদ্ভিদ তাই তাদের কিছুই হলো না বরং সে নিজেই আঘাৎ পেলো। সে গোলাপটা না নিতে পেরে চলে গেলো। কিন্তু গোলাপের শহরে যেতে না পারায় খুব মন খারাপ হলো। সে ক্যাকটাসদুটির সাথে রাগ করে আর কোন কথা বলতে চাইলো না আর তাদের এটা বলল যে সে পানির অভাবে মারা গেলেও কোনদিন তাদের সামনে মাথা নোয়াবে না। ক্যাকটাসদুটি তার অহংকারের কারণটা কিছুটা আন্দাজ করতে পারলো তাই তারাও আর তাকে পানি দিলো না। প্রখম কয়েকদিন এমন ভাবেই চললো কিন্তু যত সময় যেতে থাকলো গোলাপ ততই দুর্বল হয়ে যেতে থাকলো।

একসময় তার গায়ের সেই সুন্দর লাল রং কালো হয়ে গেল এবং দুর্বলতার কারণে সে নুইয়ে পড়লো। তারপর সে ক্যাকটাসদের কাছে ক্ষমা চাইলো আর তাকে পানি দিতে বলল। ক্যাকটাসদুটো তাকে ক্ষমা করে দিয়ে তাকে পানি দিলো। তারপর আস্তে আস্তে গোলাপ সুস্থ হয়ে উঠলো এবং তারা আবার আগের মত একসাথে থাকা শুরু করলো। এই Story-র Moral ঠিক কি হতে পারে আমার জানা নেই। আপনারাই Guess করুন।