ইন্টারনেট হতে ইনকাম করার জন্য হ্যাকিং হলো এমন একটি উপায় যার মাধ্যমে আপনি মিলিয়নিয়ার হয়ে যেতে পারেন; তাইবলে আমি কার্ডিং (ক্রেডিট কার্ড হ্যাকিং) এর মাধ্যমে কোটিপতি হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি না!

আজ আমরা ইথিক্যাল হ্যাকিং এর মাধ্যমে কিভাবে ইন্টারনেট হতে ইনকাম করতে পারেন সেটা নিয়ে আলোচনা করবো এবং সফলতা আর সম্ভাবনার নতুন দুয়ার উন্মুক্ত করবো।

হ্যাকিং কি?

হ্যাকিং হলো অন্যের অনুমতি ছাড়া কোন বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে (তা হউক ইথিক্যাল কিংবা নন-ইথিক্যাল উদ্দেশ্য) তার সিস্টেমে অবৈধ অনুপ্রবেশ করা।
এখানে সিস্টেম বলতে ভিক্টিম (যা/যাকে টার্গেট করে হ্যাকিং করা হয়) হতে পারে একজন ব্যক্তির কম্পিউটার কিংবা ওয়েবসাইট ইত্যাদি।

এমনকি সোস্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর ক্ষেত্রে ভিক্টিম বলতে একজন মানুষের মস্তিষ্ক তথা সাইকোলজি’কেও ইন্ডিরেক্টলি ইন্ডিকেট করা হয়ে থাকে।

হ্যাকিং শিখে কিভাবে নিজের ক্যারিয়ার গড়বেন?

মনে করুন আপনি একটি স্কুলে টিচার এবং ওয়েবসাইট হ্যাকিং এর বিষয়ে পারদর্শী; এখন ঐ স্কুলের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট’টি স্ক্যান করে আপনি কিছু ভার্নাবিলিটি (দূর্বলতা) সার্চ আউট করলেন এবং তা স্কুল অথোরিটিকে জানালেন।

স্কুল অথোরিটি আপনার স্কিলে মুগ্ধ হয়ে ওয়েবসাইট’টি ডেভোলপ করার দায়িত্ব আপনাকে দিয়ে দিলো সাথে সম্মানী স্বরূপ কিছু টাকা।

হ্যা….শুনতে গল্প মনে হলেও এভাবেই এলীট হ্যাকার’দের ক্যারিয়ার গড়ে ওঠে যেখানে “হ্যাকিং একটি নেশার মতো আসক্তি যা আপনার লাইফের সফলতার সম্ভাবনা বয়ে নিয়ে আসে”।

উপরের গল্পের মতোই ইন্ট্যারন্যাশনালি হ্যাকারদের নিয়ে বিভিন্ন ছোট বড় আইটি রিলেটেড কোম্পানী আয়োজন করে বাগ বাউন্টি যার মাধ্যমে হ্যাকারদের সম্মানী স্বরূপ দেওয়া হয় অর্থ পুরুষ্কার; এভাবেই সম্মানের সাথে সাথে হ্যাকারেরা নিজেদের হ্যাকিং স্কিল দিয়ে গড়ে তোলে হ্যাকার লাইফ (ক্যারিয়ার)।

বাগ বাউন্টি কি?

বাগ বাউন্টি হলো এমন একটি প্রোগ্রাম যেখানে বিভিন্ন সফটওয়্যার বা আইটি রিলেটেড কোম্পানি তাদের সিস্টেমের ভার্নাবিলিটি (দূর্বলতা/ত্রুটি) খুজে (ফাইন্ড আউট করা) হ্যাকার’কে পুরুষ্কৃত করে।
যিনি এমন হ্যাকিং কাজে নিয়োজিত থাকে তাকে বাগ বাউন্টার বলা হয়।
বিভিন্ন বাগ বাউন্টি কোম্পানীর ভেতর আছে গুগল, ফেসবুক, মজিলা, মাইক্রোসফট ইত্যাদি।

বাগ বাউন্টি শিখতে হলে কি কি জানতে হবে?

আপনি যদি সত্যিকার অর্থেই একজন বাগ বাউন্টার হতে চান তবে আপনাকে সবার আগে ডিসাইড করতে হবে যে আপনি কোন সেক্টরে বাগ বাউন্টি করতে চাচ্ছেন?

যেমন ওয়েব এপ্লিকেশন, মোবাইল এপ্লিকেশন ইত্যাদি।
আপনাকে অবশ্যই প্রোগামিং ল্যাঙ্গুয়েজ যেমন এইচটিএমএল (হাইপার টেক্সট মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজ), জাভা, জাভাস্ক্রিপ্ট, সি,সি প্লাস প্লাস, পাইথন, রুবি, মাইএসকিউএল প্রভৃতি সম্পর্কে জানতে হবে এবং ইউটিলাইজেশনে দক্ষ হতে হবে।

একইরূপ নেটওয়ার্কিং, সাইবার এট্যাক (যেমন ডিডস,এক্সএসএস,ব্রুট ফোর্স এট্যাক,এসকিউএল ইনজেকশন প্রভৃতি) বিষয় সম্পর্কে জানাতে হবে; এছাড়াও বিভিন্ন টুলস (সফটওয়্যার) যেমন Burpsuit, sqlmap, owasp ব্যবহারে পরিপূর্ণ দক্ষ হতে হবে।

হ্যাকিং নাকি সাইবার ক্রাইম?

যখনই আমি হ্যাকিং এর কথা বলি তখনই আপনার মাথাতে জেগে উঠে এটা আবার সাইবার ক্রাইম নয়তো?

আসলে বাগ বাউন্টি হলো ইথিক্যাল হ্যাকিং (ব্লু হ্যাট হ্যাকিং) তবে আপনি যদি হ্যাকিং বিদ্যাটাকে খারাপ কাজে ব্যবহার না করেন তবে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।
একদা টাইগার মেট গুগল ডট কম ডট বিডি সাইট হ্যাক (মূলত এটা ছিলো ডোমেইন হাইজ্যাকিং) করার জন্য আইনের হাতে গ্রেফতার পর্যন্ত হয়েছিলো; এই সর্তকবানীটা মনে রাখবেন নিশ্চয়ই…..
বাগ বাউন্টার হতে হলে আপনাকে অবশ্যই বাউন্টি প্রোগাম’গুলো কখন আয়োজন হয়, কিভাবে অংশগ্রহণ করতে হয় এবং কিভাবে পুরুষ্কার গ্রহণ করতে হয় সে বিষয়ে বিস্তর স্ট্যাডি করা আবশ্যক (উদাহরনস্বরূপ ফেসবুক হ্যাকার কাপ বাউন্টি প্রোগাম)।

সত্যিই কি আমি হ্যাকার হতে পারবো?

হ্যাকিং বিষয়টা হলো “সম্ভাবনাকে সফলতাতে রূপ দেওয়া” তাই যদি আপনার মনে সংশয় তৈরী হয় যে সত্যিই আপনি হ্যাকার হতে পারবেন কিনা তাহলে আপনাকে আমি এডভাইস করবো “আপনি ততোক্ষন পর্যন্ত চেষ্টা করবেন যতোক্ষন না পর্যন্ত আপনি সফল হতে পারছেন” ইনশাআল্লাহ সফলতার সোনার হরিণ আপনার নিকট ধরা দিতে বাধ্য।

ফেসবুকে আমার বন্ধুত্বের দাওয়াত রইলো Md Abul Kalam Azad
আজকের মতো এতোটুকুই; ইনশাআল্লাহ পরের পর্বে হ্যাকিং প্রিন্সিপাল’স গুলো শেখানোর চেষ্টা করবো; জাজাকাল্লাহ